বিদ্রোহী কবি নজরুলের পাশেই ঠাঁই হলো আরেক বিদ্রোহী হাদী’র
কান্না, শোক আর নিস্তব্ধতার মধ্য দিয়ে চিরবিদায় নিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।
এর আগে দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজার নামাজ। বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।
জানাজার সময় সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকা পরিণত হয় মানুষের ঢলে। হাজারো নয়, লাখো ছাত্র-জনতা প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুমতিতে তারা দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করলে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
রাজনৈতিক অঙ্গনে শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠ। জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যিনি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হন। সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল তার রাজনৈতিক পথচলা—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু সেই পথচলা থেমে যায় ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায়। গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর তার অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে সেখানেই তার জীবনাবসান হয়।
আজ তিনি নেই। কিন্তু তার কণ্ঠ, তার প্রতিবাদ আর তার স্বপ্ন—রয়ে গেল লাখো মানুষের স্মৃতিতে।
প্রতি /এডি /শাআ











